জাতীয়
সরকারের কাছে সম্পদের হিসাব দিলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ! কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল!
কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল, পদত্যাগের বিষয়ে ‘সিস্টেম ফলো’ করার ইঙ্গিত
ঢাকা: ১০ ডিসেম্বর (বুধবার): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বুধবার সকালে সরকারের কাছে তাঁর সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে, তিনি তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্টও বাতিল করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার বিকেলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
নির্বাচনী প্রস্তুতি: হিসাব ও পাসপোর্ট বাতিল
উপদেষ্টা পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিলে সম্পদের হিসাব দাখিল করবেন কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ জানান, “ইতিমধ্যে আজ সকালেই আমি সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেছি এবং আমার যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট আছে, সেটাও আমি ক্যানসেল করেছি।”
দলীয় অবস্থান ও পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা
নির্বাচনে কোন দল থেকে অংশ নেবেন এবং কখন পদত্যাগ করবেন, এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেছেন উপদেষ্টা।
- দলীয় অংশগ্রহণ: তিনি জানান, নির্বাচন করবেন—এটা স্পষ্ট। তবে কোন দল থেকে করবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এনসিপি (ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর সহযোদ্ধা ছিলেন, তারাই এই দলটি করেছে। তবে তিনি বলেন, “এটা ধরে নেয়া ঠিক হবে না যে আমি সেই দলেই যুক্ত হব বা অংশগ্রহণ করব।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
- পদত্যাগ: পদত্যাগ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা বলেন, “সে বিষয়ে আমার কোনো কিছু বলার ইখতিয়ার নেই। সেটা আমাদের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আপনাদের যথাসময় জানিয়ে দেওয়া হবে।”
নীতিগত অবস্থান ও আইনি বাধ্যবাধকতা
উপদেষ্টা পদে থেকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই, এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ তাঁর নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এটা ইতিমধ্যে আমি নিজেও বলেছি যে উপদেষ্টা পদ থেকে নির্বাচন করা উচিত না। যদিও আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা এক্ষেত্রে আসলে নেই। আমি যেটা নিজে বলেছি সেটা আমি নিজেও প্র্যাকটিস অবশ্যই করব।”
তবে, পদত্যাগের তারিখ বা এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার সুযোগ তাঁর নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি তো এখনো একটা সিস্টেমের মধ্যে আছি। তাই আমাকে সিস্টেম ফলো করতে হয়। যদি উপর থেকে কোনো নির্দেশনা আসে, সেটাকে আমার মেনে চলতে হয়।”
বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়ে মন্তব্য
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “দায়িত্বে থাকাকালীন অবশ্যই আওয়ামী লীগের বিদায় নেয়ার পরে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আমি মনে করি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেকেই বাক স্বাধীনতার অপপ্রয়োগও করেছেন। অনেক সংবাদ মাধ্যমও করেছে।”
তিনি প্রত্যাশা করেন, বাকস্বাধীনতা থাকবে এবং সেটার যেন প্রকৃত ও সৎ ব্যবহার সবাই নিশ্চিত করে।
এই সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী সহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Facebook Comments