অপরাধ

পরকিয়া যখন সমাজের এক ভয়াবহ ব্যাধি, তখন মায়ের বিরুদ্ধে হয় সন্তান রাজসাক্ষী!

Published

on

মোঃ শাজনুস শরীফঃ বরগুনার বামনায় প্রবাসীকে গলা টিপে হত্যা, স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক কারাগারেবরগুনার বামনা উপজেলায় পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে এক প্রবাসীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক আল আমিনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো—নিজ বাবাকে হত্যার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে তাদেরই ছোট সন্তান সাব্বির, যে এখন মায়ের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষীতে পরিণত হয়েছে।রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের ঘোপখালি গ্রামের নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মো. আবদুল জলিল একজন প্রবাসী ছিলেন এবং তার সংসারে পাঁচ সন্তান রয়েছে।স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, আবদুল জলিল প্রায় ১৫ দিন আগে প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। তিনি বিদেশে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী নাজমা বেগমের সঙ্গে একই এলাকার আবু খতিবের ছেলে আল আমিনের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল আমিন দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে জলিলের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। বিষয়টি জলিল জানতে পারলে পারিবারিক কলহ চরমে পৌঁছায়।অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার দুপুরে জলিলকে প্রথমে অচেতন করা হয় এবং পরে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পুরো ঘটনাটি নিজ চোখে দেখে তাদের ছোট ছেলে সাব্বির। ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বামনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে।পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে নিহত আবদুল জলিলকে দাফন করা হয়।এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে নাজমা বেগম ও আল আমিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।এদিকে, শিশু সাব্বিরের লোমহর্ষক বর্ণনায় উঠে এসেছে—কিভাবে তার মা ও মায়ের পরকীয়া প্রেমিক একসঙ্গে তার বাবাকে হত্যা করে। ঘটনাটি সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।ভিডিও লিংক: https://www.facebook.com/share/v/1Bp3VrcEFA/

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version