রাজনীতি
চরফ্যাশনে জামায়াতে যোগদানের দাবি বিএনপির ১০ কর্মীর, অস্বীকার বিএনপি নেতাদের!
ভোলা প্রতিনিধি ॥
ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপির ১০ জন কর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছে জামায়াত। তবে এ দাবিকে অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী কার্যালয়ে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগদান করেন। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন দলটির নেতাকর্মীরা।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যোগদানকারীরা চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন শাহে আলম হাওলাদার, তাইয়্যেব হাওলাদার, জাহাঙ্গীর, মফিজুর রহমান, কামাল হোসেন, তুহিন, রিপন আম্মান, আবু তাহের ও পারভেজ হোসেনসহ মোট ১০ জন।
যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা জহিরুল ইসলাম, পৌর যুব বিভাগের সভাপতি নুরনবী আল মামুন, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইসমাইল, চরফ্যাশন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রমিজ উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মাওলানা জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া, পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমীন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ডা. হারুন অর রশিদসহ জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল বলেন, “ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। নতুন যারা যোগ দিয়েছেন, তারা সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমরা আশা করি।”
এ বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। চরফ্যাশন পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেল বলেন, “এই ব্যক্তিরা কেউ বিএনপির নেতা-কর্মী বা সমর্থক নন। তারা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে গত ৫ তারিখের পর তাদের বিএনপির লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।”
এ প্রসঙ্গে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হেলাল উদ্দিন টিপু বলেন, “আমি বর্তমানে এলাকায় নেই। এলাকায় গিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা।”
Facebook Comments