বিশেষ সংবাদ
কনিষ্ঠ পুলিশ সদস্যদের লাঠিচার্জে সাংবাদিকসহ গণমাধ্যমকর্মী আহত
নির্বাচনের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় চার হাজার পুলিশ সদস্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে হওয়ায় দায়িত্ব পালনে ভারসাম্যহীনতা ও আচরণগত দুর্বলতার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব কনিষ্ঠ ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণহীন পুলিশ সদস্যদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি দমনে ব্যবহার করছে, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (আজ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের একটি কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
এ সময় দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক মোঃ আবু সালেহ মুসা -সহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী পুলিশের হামলায় আহত হন বলে জানা গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও কয়েকজন সংবাদকর্মী পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে রেহাই পাননি।
এতে ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সকাল বাংলা নিউজ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শাজনুস শরীফ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,“সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কনিষ্ঠ ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণহীন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে জনসমাগমপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করানো একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। এর নেতিবাচক ফল ভোগ করতে হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের।”তিনি অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, অল্প বয়সী ও অভিজ্ঞতাহীন পুলিশ সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত ও সংবেদনশীল দায়িত্ব অর্পণ করলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তারা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক আচরণ, পেশাদারিত্ব এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বয়সভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন অত্যন্ত জরুরি।
Facebook Comments