সর্বশেষ
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ক্রয়ে চুক্তি স্বাক্ষর
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমুদ্র গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে Government-to-Government (G2G) ভিত্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘HMS ENTERPRISE’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য ক্রয় করা হবে।রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মোঃ শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিস ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাই-কমিশনার, যুক্তরাজ্যের সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।২০২৫ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ আলোচনার ফলশ্রুতিতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।
সরকারের দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।‘HMS ENTERPRISE’ একটি আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ, যেখানে মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার ও সাব-বটম প্রোফাইলারসহ উন্নত জরিপ সরঞ্জাম সংযোজিত রয়েছে। গভীর সমুদ্র জরিপ, সীবেড ম্যাপিং, ফিজিক্যাল ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ এবং নেভিগেশনাল চার্ট প্রস্তুতে জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। জাহাজটিতে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে।
এই জাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে International Hydrographic Organization (IHO) প্রণীত সর্বশেষ জরিপ মানদণ্ড বাস্তবায়ন সহজতর হবে এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।জাহাজটি বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BORI) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সামুদ্রিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে মোতায়েনের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা প্রতিরোধ, সমুদ্র উদ্ধার অভিযান এবং মৎস্য ও তেল-গ্যাস ব্লকে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।উল্লেখ্য, ‘HMS ENTERPRISE’ ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয় এবং ২০২৩ সালে ডি-কমিশন করা হয়। জাহাজটির পুনঃসংস্কার (Re-Generation) কার্যক্রম ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Facebook Comments