আন্তর্জাতিক

ইরানের পাল্টা প্রস্তাব প্রস্তুতি, সামরিক হামলা বিবেচনায় ট্রাম্প

Published

on

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনা শেষে তারা কয়েক দিনের মধ্যেই একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব প্রস্তুত করবে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, চলতি সপ্তাহে জেনেভাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় কিছু মৌলিক ‘নির্দেশক নীতিমালা’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে খুব শিগগিরই চুক্তি সই হচ্ছে।

আরাকচি মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক এমএস নাওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে তিনি সতর্ক করেন, সামরিক পদক্ষেপ নিলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়বে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তেহরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ মেটাতে চুক্তিতে না পৌঁছালে ‘খুব খারাপ কিছু’ ঘটবে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার তিনি বলেন, সীমিত হামলার কথা তিনি ‘বিবেচনা করছেন’। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তাদের একটি ন্যায্য চুক্তিতে আসাই ভালো।

দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য হামলায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা বা তেহরানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে বিষয়টি ট্রাম্পের নির্দেশনার উপর নির্ভরশীল।

এরও আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবারও হামলার হুমকি দেন। এ সময়ে তেহরান ব্যাপক বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, অল্প সময়ের মধ্যে ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এই সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, তার হুমকির পর ইরান গণফাঁসির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৭,১১৪টি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিতভাবে নথিভুক্ত করেছে। এছাড়া আরও ১১ হাজার ৭০০টি ঘটনা পর্যালোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইরান সরকার ইতোমধ্যে অস্থিরতায় নিহত ৩ হাজার ১১৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আমাদের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে কারও সন্দেহ থাকলে প্রমাণসহ কথা বলুন।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version