অপরাধ
সংবাদ প্রকাশের ১২ দিন পর ডিবির জালে ‘কালু বাহিনী’ প্রধানসহ ৪ জন
বরগুনা প্রতিনিধি: অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ১২ দিন পর বরগুনায় আলোচিত ‘কালু বাহিনী’র প্রধান মোঃ ইব্রাহিম হোসেন (ওরফে কালু) সহ তার বাহিনীর আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনলাইন পোর্টাল সকাল বাংলা নিউজ–এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘কালু বাহিনী’র তৎপরতা তুলে ধরা হয়েছিল।ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি সড়কে একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাপট প্রদর্শন ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ‘নিঝুম ভবন’ নামে একটি ভবনে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—১. মোঃ ইব্রাহিম হোসেন (কালু) (২৭),২. মোঃ রাজন (২০),৩. মোঃ আলআমিন (১৯),৪. মোঃ শাকিল (২৪)।পুলিশের দাবি, তারা কিশোর গ্যাং গঠন করে বরগুনা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্রসহ দলবদ্ধভাবে দাপট প্রদর্শন, মারধর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল।একাধিক মামলার তথ্যপুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি ইব্রাহিম হোসেন (কালু)-এর বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে এফআইআর নং-২৮ (১৬ জুন ২০২৩), জিআর নং-১৯৭/২৩ মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ধারায় চার্জশিট (নং-৩৩১, ৩০ নভেম্বর ২০২৩) দাখিল হয়েছে। এছাড়া এফআইআর নং-১৮/২৭১ (১৭ আগস্ট ২০২২), জিআর নং-২৭১/২২ মামলায় ১৪৩/৩০৭/৩২৫/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৫০৬ ধারায় এবং এফআইআর নং-৫ (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫), জিআর নং-৩৯০/২৫ মামলায় ৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/১০৯ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।গ্রেপ্তারকৃত রাজনের বিরুদ্ধেও এফআইআর নং-২৮/২০২৩ মামলায় ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ধারায় চার্জশিটভুক্ত এবং এফআইআর নং-৫/২০২৫ মামলায় ৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/১০৯ ধারায় অভিযুক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।অন্যদিকে শাকিলের বিরুদ্ধে এফআইআর নং-৩৫ (১৩ আগস্ট ২০২৫), জিআর নং-৩৫৮/২৫ মামলায় দণ্ডবিধি ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় চার্জশিট (নং-৩৬৫, ৩০ নভেম্বর ২০২৫) দাখিল হয়েছে বলে জানানো হয়।অস্ত্র উদ্ধারজিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিম হোসেন (কালু) অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে তার দেখানো মতে তিনটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে—২৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছেনা (কাঠের বাটসহ),৩২.৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছেনা (কাঠের বাটসহ),২৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি রাম-দা (কাঠের বাটসহ)।অস্ত্রগুলো জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।আইনগত ব্যবস্থাএ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ৪(১) ধারা এবং প্রধান আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এর ১৯(৩) ধারায় বরগুনা সদর থানা-য় মামলা দায়ের করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, বরগুনায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Facebook Comments