আন্তর্জাতিক
ইরানে স্কুলে ইসরায়েলের হামলায় নিহত বেড়ে ৫১
ইরানে হঠাৎ করেই যৌথ হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলা হয়। হামলায় ইরানের একটি স্কুলে নিহত বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
নিহতরা সবাই শিক্ষার্থী বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হামলাটি ঘটে। এতে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারে তায়্যিবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। হামলায় অন্তত আরও ৬০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৭০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল। হামলার পর অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, স্থানীয় সময় শনিবার ৯টার দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ছয়টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে। তবে, হামলার আগেই খামেনিকে ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে, রাজধানী তেহরানে শনিবার খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। খামেনিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জুমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া সৈয়দ খান্দান এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী বিমান যুদ্ধের পর এই হামলা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এগোয়, তবে তারা আবারও হামলা চালাবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর থেকে হুমকি দূর করতে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা চালিয়েছে।
একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই হামলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।
Facebook Comments