আইন-আদালত
বরগুনায় ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয়ে ব্লাকমেইল চক্রের হদিস; ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা
বরগুনা প্রতিবেদক: বরগুনায় অভিনব কায়দায় বিয়ের ফাঁদে ফেলে এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে ব্লাকমেইল করার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারায় বরগুনার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মো. ফিরোজ খান মোহন (৩৮)।ঘটনার বিবরণ: মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, মামলার ১ নম্বর আসামি শিরিন সুলতানা রুনু নিজেকে ডিভোর্সড নারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাদীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তারা বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেন। বাদী অভিযোগ করেন, ১ নম্বর আসামী তার ভাড়া বাসায় বাদীকে প্রায়ই আসার অনুরোধ করতেন এবং সেখানে গোপনে ক্যামেরা সেট করে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন।পরবর্তীতে ২ নম্বর আসামি মো. মিজানুর রহমান নিজেকে রুনুর স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপরই শুরু হয় ব্লাকমেইল।
ওই গোপন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তারা বাদীর কাছ থেকে ইতোমধ্যেই ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।চাঁদা দাবি ও হুমকি: মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৭ই মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেলে বরগুনা থানাধীন বদরখালী ইউনিয়নের তানিয়া মেডিকেলের সামনে আসামিরা বাদীর গতিরোধ করে। সেখানে সাক্ষীদের সামনে তারা আরও ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ছবিগুলো ইন্টারনেটে ভাইরাল করা এবং বাদীর বিরুদ্ধে উল্টো ধর্ষণ মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।আইনি পদক্ষেপ: ভুক্তভোগী ফিরোজ খান মোহন জানান, আসামিরা পেশাদার প্রতারক এবং তারা স্বামী-স্ত্রী সেজে বিভিন্ন লোককে এভাবে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করে। তিনি এই প্রতারক চক্রের উপযুক্ত বিচার এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (W/A) জারির জন্য আদালতের নিকট প্রার্থনা করেছেন।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে এই ব্যাপারে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে সকাল বাংলা নিউজ।
Facebook Comments