অর্থনীতি

প্রবীণদের অবসরজীবনে নতুন দিগন্ত: আধুনিক সেবা ও স্বাচ্ছন্দ্যের এক অনন্য ঠিকানা

Published

on

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে জাপান–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হসপিটাল—প্রবীণদের জন্য এক আধুনিক ও মানবিক সেবাকেন্দ্র, যেখানে শেষ জীবনের সময়টুকু কাটানো যায় স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে।প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি বৃদ্ধাশ্রম নয়; এটি মূলত একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন ব্যবস্থা। এখানে প্রবীণরা অ্যাপার্টমেন্টে বসেই পাচ্ছেন সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা, নার্সিং কেয়ার এবং প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভারের সহায়তা। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, ডিমেনশিয়া বা জীবনের শেষ পর্যায়ের জটিলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য রয়েছে প্যালিয়েটিভ ও হসপিস কেয়ারের সুব্যবস্থা।প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানসিক প্রশান্তিপ্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিবেশবান্ধব নকশা। চারটি পৃথক ভবন—পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও সুরমা—এমনভাবে নির্মিত যে বাসিন্দারা সহজেই ছাদে যেতে পারেন। ফুল, লতা-পাতা আর খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানোর সুযোগ প্রবীণদের মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়। প্রয়োজনে রোগীর বিছানাও ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তারা প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে পারেন।আধুনিক সুযোগ-সুবিধাএখানে রয়েছে—সুইমিংপুল, জ্যাকুজি ও স্টিমবাথজিম ও ফিজিওথেরাপি সেন্টারলাইব্রেরি ও মুভি থিয়েটারযোগব্যায়াম ও স্পিরিচুয়াল ওয়েলনেস সেন্টারসামাজিক মেলামেশা ও হাঁটার জন্য উন্মুক্ত স্থানএছাড়া নিয়মিত রিভার ক্রুজ ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থাও রয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনাপ্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্স ভিজিট করেন। ডায়াবেটিস, রক্তচাপসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয় নিয়মিত। পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে তৈরি খাবার সরাসরি কক্ষে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা প্রবীণদের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।প্রবীণদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়বর্তমানে এখানে সীমিতসংখ্যক বাসিন্দা থাকলেও আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগেই অ্যাপার্টমেন্ট কিনে রাখছেন। কেউ কেউ আবার সন্তানদের বিদেশে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে এখানে থাকেন।ব্যয় ও বাস্তবতাএখানে থাকার খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মূলত সচ্ছল ব্যক্তিরাই এই সুবিধা নিতে পারছেন। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, বাসা, গৃহকর্মী, নিরাপত্তা ও চিকিৎসা খরচ একত্রে বিবেচনা করলে এই ব্যয় অস্বাভাবিক নয়।প্রবীণ সমাজ: ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জবাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দশকগুলোতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রবীণদের জন্য এমন মানসম্পন্ন আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।উপসংহারএই ধরনের প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের জীবনের শেষ অধ্যায়কে কেবল সহনীয় নয়, বরং উপভোগ্য করে তুলছে। পরিবার থেকে দূরে হলেও এখানে তারা পাচ্ছেন নিরাপত্তা, যত্ন এবং সম্মান—যা একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version