অর্থনীতি
‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’—হাদি হত্যা মামলায় ফয়সালের দাবি!
স্টাফ রিপোর্টারঃ হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।রোববার পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালতে হাজির করা হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন, “আমি হাদি হত্যার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। কোথাও প্রমাণ দেখাতে পারবেন না যে আমি সরাসরি গুলি করেছি।”সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীরকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আগামী ২ এপ্রিল আবারও তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা বা প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।আদালত প্রাঙ্গণে ফয়সাল আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। তার ভাষ্য, “সিসিটিভি ফুটেজে আমাকে দেখা গেলেও গুলি করার কোনো দৃশ্য নেই।”তবে তিনি কেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন—এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফয়সাল নিজেকে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছিলেন। সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও আদালতে তিনি নীরব থাকেন।জানা গেছে, গত ৭ মার্চ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবার আদালতে তোলা হয়।এদিকে, একই মামলায় আরেক সহযোগী ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি অভিযুক্তদের ভারতে পালাতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন রাজনৈতিক কর্মী ও আলোচিত বক্তা ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয় এবং পরে তদন্ত শেষে চার্জশিটও দাখিল করা হয়।হত্যাকাণ্ডের আগে হাদি একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, যা মামলাটিকে আরও আলোচিত করে তোলে।বর্তমানে মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে প্রধান আসামির এমন দাবি নতুন করে রহস্য ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Facebook Comments