রাজনীতি

প্যান্ডেল সাজিয়ে ছাত্রলীগের ‘ঈদ পুনর্মিলনী’: ওসির দাবি ‘পুরোনো ভিডিও’!

Published

on

বরগুনা প্রতিনিধি:বরগুনার বেতাগী উপজেলায় প্যান্ডেল সাজিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ভিডিওটি পুরোনো।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন রোববার দুপুরে বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত শিকদারের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শাখার প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রায় ৪ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাঠে প্যান্ডেল টাঙিয়ে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজাকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।ভিডিওতে তার বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে একত্রিত হওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের “ঈদ পূর্ণতা পাবে সেই দিন, যেদিন প্রিয় নেত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে।”এছাড়া মুঠোফোনে বক্তব্য দেন বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম গোলাম কবির ও সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান ফোরকান। তারা উপস্থিত নেতাকর্মীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ইমরানও ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বলে জানা গেছে।অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এ সময় বিভিন্ন নেতাকর্মীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের নীরবতা বা সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল আহমেদ। তিনি বলেন, “এটি একটি পুরোনো ভিডিও, যা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।”এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version