আন্তর্জাতিক
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ—মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা!
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ দিচ্ছেন সৌদি আরবের ডি-ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান—এমন দাবি করেছে প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম The New York Times।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সৌদি যুবরাজ। আলোচনায় তিনি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কঠোর সামরিক অবস্থান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এমনকি তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এবং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ মনে করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার জন্য বড় বাধা এবং এই হুমকি দূর করতে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে তা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে প্রধান কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। তার দৃষ্টিতে, ইরান অভ্যন্তরীণ সংকটে দুর্বল হয়ে পড়লে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অনুকূল হতে পারে।অন্যদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ইতোমধ্যে ইরান ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা-পাল্টা হামলার প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি-এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ চেইনে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর।তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ নাকচ করেছে সৌদি সরকার। তাদের দাবি, শুরু থেকেই তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের জনগণ ও অবকাঠামোকে সুরক্ষা দেওয়া।এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা দোদুল্যমান বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে তিনি দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সম্প্রতি তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ ও সম্ভাব্য সমাধানের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করলেও, তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।সামগ্রিকভাবে, কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক প্রস্তুতির সমান্তরাল অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও অনিশ্চয়তার এক নতুন অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
Facebook Comments