অর্থনীতি

পদ্মায় বাস দুর্ঘটনা: ব্রেক চাপলেও কেন থামেনি বাস, উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Published

on

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৌলতদিয়া, রাজবাড়ীরাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার এ মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য, যার কেন্দ্রে রয়েছে বাসটির ব্রেকিং সিস্টেমের ত্রুটি।কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনাশুক্রবার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি পন্টুনে ওঠার সময় আচমকা সামনে এগিয়ে গিয়ে সরাসরি নদীতে তলিয়ে যায়।দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। চালকের পরিচয়নিহত বাসচালকের নাম আরমান খান (৩১)। তিনি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখুলা গ্রামের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন, দুর্ঘটনার সময় তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং তার কোমরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ঝোলানো ছিল। কেন কাজ করেনি ব্রেকপ্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, চালক ব্রেক চাপলেও তা কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্ট মেকানিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, এর প্রধান কারণ হতে পারে এয়ার ব্রেক সিস্টেমে চাপ (এয়ার প্রেশার) না থাকা।পরিবহন খাতের অভিজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী—অনেক বাসে ইঞ্জিন বন্ধ থাকলে ব্রেকের এয়ার প্রেশার কমে যায়ইঞ্জিন চালু করার পর পর্যাপ্ত সময় না দিলে প্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয় নাপর্যাপ্ত এয়ার প্রেসার ছাড়া ব্রেক চাপলে তা কার্যকর হয় নাবিশেষ করে টাটা কোম্পানির কিছু মডেলের বাসে এই সমস্যা বেশি দেখা যায় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় মেকানিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যদুর্ঘটনার অল্প সময় আগে বাস থেকে নেমে যাওয়া এক যাত্রী জানান, যানজটের কারণে তিনি নেমে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “চালক নিজেই বাসটি চালাচ্ছিলেন এবং ফেরিতে ওঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।” মেকানিকদের বিশ্লেষণস্থানীয় এক মেকানিক জানান, “এয়ার ব্রেক একটি সম্পূর্ণ চাপ নির্ভর সিস্টেম। চাপ না থাকলে চালকের কিছু করার থাকে না।”অন্য এক চালক বলেন, “গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার পর মিটার দেখে নিশ্চিত হতে হয় যে পর্যাপ্ত হাওয়া জমেছে। তা না হলে ব্রেক কাজ করবে না।” বিশেষজ্ঞ মতামতযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, “এয়ার ব্রেক আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হলেও এটি নির্ভর করে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর। কেন এই ব্রেকিং সিস্টেম ব্যর্থ হলো, তা গভীরভাবে তদন্ত করা জরুরি। সামনে কীএই দুর্ঘটনা আবারও দেশের পরিবহন খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করার ব্যবস্থাই পারে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে। (এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ কপিরাইট-ফ্রি এবং আপনি এটি নিউজ, ওয়েবসাইট বা ভিডিও স্ক্রিপ্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।)চাইলে আমি এটাকে ভিডিও নিউজ স্ক্রিপ্ট, ইউটিউব ভয়েসওভার, বা থাম্বনেইল টাইটেল হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version