অর্থনীতি

নতুন করে এমপিওভুক্তির আবেদন ও যাচাই শুরু করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

Published

on

ঢাকা: বেসরকারি স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে নতুন করে আবেদন আহ্বান ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অতীতে দ্রুততার সঙ্গে করা তালিকা নিয়ে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে একযোগে ১ হাজার ৭১৯টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করে একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়। তবে এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।পরবর্তীতে তালিকাটি অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়-এর অর্থ বিভাগে পাঠানো হলেও তা অনুমোদন পায়নি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই সময় এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা থেকে সরে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।এদিকে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের আবেদনগুলোর পাশাপাশি নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে সব আবেদন পুনরায় যাচাই করে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।একই অধিবেশনে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী-এর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বর্তমানে পাঁচটি এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এজন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সময় মোট ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করে। কিন্তু মাত্র কয়েক কর্মদিবসে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও মানদণ্ড পূরণ না করেও কিছু প্রতিষ্ঠান তালিকায় স্থান পেয়েছে।এছাড়া, এমপিওভুক্তির বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও উঠে এসেছে। কোথাও কোথাও শিক্ষকপ্রতি অর্থ লেনদেনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।বর্তমানে দেশে প্রায় ২২ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ও ভাতা পেয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নতুন এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version