জাতীয়

বরগুনায় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬ উদযাপন!

Published

on

“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন, বরগুনা ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা এবং বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সমাজসেবক, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম।এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী, প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।আলোচনা সভায় বক্তারা অটিজম বিষয়ে সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের বিকাশে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা পরিষদ ভবিষ্যতেও তাদের কল্যাণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার বলেন, “অটিজম কোনো রোগ নয়; এটি স্নায়ুবিক বিকাশের একটি ভিন্নতা। সঠিক যত্ন, প্রশিক্ষণ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ পেলে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরাও সমাজের মূলধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।” তিনি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিনজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হিয়ারিং এইড বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় সুধী সমাজ অংশগ্রহণ করেন।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version