অপরাধ

বরগুনা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শহিদুল হকের ঘুষ বানিজ্য ঠেকাবে কে, তার খুটির জোর কোথায়!

Published

on

জামাল মীর : অফিসে অনিয়মিত, অনুপস্থিতি, ঘুষ না দিলে ডিলারি কেড়ে নেওয়া, ডিলারি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধ ভাবে টাকা নিয়ে ডিলারি না দেয়া সহ অসংখ্য অভিযোগের সৃষ্টি করেছেন বরগুনা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম মোঃ শহিদুল হক।

তার নিয়ন্ত্রনহীন ঘুষ বানিজ্য কেউ ঠেকাতে পারছেন না। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটির সাথে আতাত করে নিজেকে বাঁচিয়ে নিয়েছেন।

একজন দুর্নীতিবাজ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের খুটির জোর কোথায় এ প্রশ্ন থেকেই যায়। তার দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি বরগুনার সাংবাদিকদের চাঁদাবাজ আখ্যা দিতেও কালক্ষেপন করেন নি।

বরগুনা সদর উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ৩৫ জন ডিলার রয়েছেন। তাদের মধ্যে থেকে ৮ জন ডিলার বিভিন্ন অজুহাতে (কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া) ডিলারি হারিয়েছেন।

ওই ৮ জন ডিলারের স্থলে গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখ হতে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের (ইউনিয়ন কমিটির) মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর পুষ্টি চাল বিতরণ করানো হয়।

চাল উত্তোলণ ও পরিবহন ব্যয় মিশ্রণ মিল কর্তৃক পরিশোধ করা হয় বিধায় ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক চাল বিক্রয়ের বাবদ কেজি প্রতি দুই টাকা হারে (কমিশন বাবদ আদায়) সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার বিধান রয়েছে। যেহেতু পরিচালনা বাবদ কোন ব্যয় হচ্ছে না সেহেতু ইউনিয়ন কমিটি কোন প্রকার কমিশন ভোগ করতে পারে না। অথচ বর্নিত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজেই আত্মসাত করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রির (ওমএমএস) ডিলারি হারানো এক বিক্রয় কর্মীর নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, আমি যতদিন ডিলারি চালিয়েছি ততদিন বরগুনা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম মোঃ শহিদুল হক স্যার কে প্রতি মাসে ১২ হাজার করে টাকা দিতে হয়েছে। আমি যখন তাকে ঘুষ দেয়া বন্ধ করেছি, তখন তিনি আমাকে ডিলারি থেকে বাদ দিয়েছেন। এমন আরো অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আছে। যদি দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করেন তাহলে আমি তাদের সামনে এসে কথাগুলো বলতে পারবো।

বরগুনার একাধীক গণমাধ্যম কর্মীর সাথে কথা হলে তারা জানান, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শহিদুল হক মহা-দুর্নীতিবাজ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে বরগুনা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক একেএম মোঃ শহিদুল হকের সাক্ষাৎকার নিতে তার অফিসে গেলে অফিস সহকারী জানান তিনি ছুটিতে আছেন। অফিস ফাঁকি দেয়া এ কর্মকর্তা বরগুনা সদর অফিসে যোগদান করেছেন ১৯/০৫/২০২৪ ইং তারিখে।

এ সকল ঘটনার বিষয়ে বরগুনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির বলেন, আমি যেখানেই চাকুরী করি সেখানে কেউ অনিয়ম করতে পারেনা। আমি বিষয়টি দেখবো।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version