বিশেষ সংবাদ

নারীরা কেন পুরুষদের তুলনায় বেশি দিন বাঁচে?

Published

on

বিশ্বের প্রায় সব দেশেই একটি বিষয় লক্ষ করা যায়-পুরুষদের তুলনায় নারীরা সাধারণত বেশি দিন বাঁচেন। বহু গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানেও এই তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে শুধু একটি কারণ নয়; বরং জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, জীবনযাপন ও সামাজিক আচরণের সম্মিলিত প্রভাব কাজ করে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭২ বছর। তবে নারী ও পুরুষের আলাদা হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের তুলনায় কয়েক বছর বেশি। একইভাবে শতবর্ষী মানুষের তালিকাতেও নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ মানুষের জিনগত গঠন। নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে, আর পুরুষদের থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। ফলে নারীদের শরীরে কোনো জিনগত ত্রুটি দেখা দিলে অন্য এক্স ক্রোমোজোম অনেক ক্ষেত্রে তা সামলে নিতে পারে। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত সুরক্ষা থাকে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জন্মের আগ থেকেই এই পার্থক্য শুরু হয়। পুরুষ ভ্রূণের মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। জন্মের সময়ও ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বড় আকারের কারণে জটিল প্রসব বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।হরমোনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকায় তারা অনেক সময় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। দ্রুতগতির জীবনযাপন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ কিংবা দুর্ঘটনায় জড়ানোর প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।অন্যদিকে নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এটি শরীরে কিছু ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাবও কমাতে সাহায্য করে।

জীবনযাপনের ধরনও আয়ুর ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। ধূমপান, মদ্যপান, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত চাপপূর্ণ জীবন পুরুষদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক দেশে পুরুষদের মধ্যে এসব অভ্যাস বেশি হওয়ায় তাদের গড় আয়ু কমে যায় বলে মনে করেন গবেষকরা।তবে বেশি দিন বেঁচে থাকলেই যে নারীরা সবসময় সুস্থ থাকেন, বিষয়টি এমন নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা দীর্ঘায়ু হলেও জীবনের বড় একটি সময় নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে কাটান। চিকিৎসাসেবাও তুলনামূলক বেশি নিতে হয় তাদের।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা, হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে আসছে। ভবিষ্যতে এই ব্যবধান আরও কমে যেতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে, নারী-পুরুষের আয়ুর পার্থক্য কেবল পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরীরের গঠন, হরমোন, জীবনযাত্রা ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক।

Facebook Comments

Trending

Exit mobile version