অর্থনীতি
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যেভাবে ঈদ উদযাপন করলেন তারেক রহমান
ঢাকা: দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেন তারেক রহমান। তার এই ঈদ উদযাপন ঘিরে দেশজুড়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা।জাতীয় ঈদগাহে ঐতিহাসিক মুহূর্তঈদের দিন সকালেই রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রের দুই শীর্ষ ব্যক্তির একসঙ্গে নামাজ আদায় একটি উল্লেখযোগ্য দৃশ্য হয়ে ওঠে।নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে তারা মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।যমুনায় শুভেচ্ছা বিনিময়ঈদের নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচারপতি, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎঈদের দিনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। তাদের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।সাধারণ মানুষের ভোগান্তিযদিও সর্বস্তরের মানুষের জন্য শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘোষণা ছিল, ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে অনেক সাধারণ মানুষ যমুনায় প্রবেশ করতে পারেননি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ভেতরে ঢুকতে না পেরে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতদুপুরে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে গিয়ে বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া-এর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় একটি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।পারিবারিক আবহে ঈদরাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুলশানের বাসভবনে ঈদের সময় কাটান তিনি। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে একত্রিত হওয়ায় সেখানে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ।সাংবাদিকদের ফোনে শুভেচ্ছাসন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী কারামুক্ত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন আনিস আলমগীর ও শফিক রেহমান।ঐক্যের বার্তাঈদ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সমাজের সব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সারসংক্ষেপদীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশের মাটিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান-এর প্রথম ঈদ ছিল আবেগ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার এক মিশ্র অভিজ্ঞতা।এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
