Connect with us
Porikromanews 728x60 Banner

অর্থনীতি

দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ৫,৪৯৬ কোটি টাকা পরিশোধ করল সরকার

Published

on

ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সৃষ্ট বকেয়া দায় পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় করেছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) এবং বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)-এর বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে জমে থাকা ভর্তুকি বাবদ মোট ৫ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩ হাজার ৮৭৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১ হাজার ৬২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা দুই দফায় ছাড় করা হয়। চলতি মার্চ মাসের ৮ ও ১৫ তারিখে এই অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।অনুমোদন ছাড়াই ভর্তুকি প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্নসরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে সংশ্লিষ্ট দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এমন অনুমোদন ছাড়া ভর্তুকি প্রদানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, মোট ১১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০২টির ট্যারিফ অনুমোদিত থাকলেও ৮টি কেন্দ্রের অনুমোদন ছিল না। এর মধ্যে বিসিপিসিএল ও বিআইএফপিসিএলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে এসব কেন্দ্রের ভর্তুকি স্থগিত রাখা হয়।বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ছাড়পরবর্তীতে নির্বাচন, রমজান, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বিবেচনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে শর্তসাপেক্ষে বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের বকেয়াও দুই দফায় পরিশোধ করা হয়েছিল।এরপর অন্যান্য ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদিত হলেও বিসিপিসিএল ও বিআইএফপিসিএলের অনুমোদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। প্রায় নয় মাসেও এই দুটি কেন্দ্রের ট্যারিফ চূড়ান্ত না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।ঋণদাতার ছাড়পত্র জটিলতাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই প্রকল্পগুলোর সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ জড়িত থাকায় ট্যারিফ সংশোধনের আগে ঋণদাতাদের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এখনো সেই ছাড়পত্র না পাওয়ায় বিষয়টি মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।শর্তসাপেক্ষে অর্থ ছাড়এ অবস্থায় অর্থ বিভাগ কয়েকটি শর্তে ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত ট্যারিফ অনুমোদন নিশ্চিত করাপ্রকৃত ভর্তুকির সঙ্গে পরবর্তীতে সমন্বয়অর্থ শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যবহারআর্থিক বিধি মেনে ব্যয় নিশ্চিত করানিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়াভবিষ্যতে অডিটের মাধ্যমে যাচাইক্যাপাসিটি চার্জ যৌক্তিকভাবে কমানোআধুনিক ইআরপি সফটওয়্যার চালু করাভর্তুকির চাপ কমানোর পরিকল্পনাবিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই)সহ বিভিন্ন খাতে সমন্বয় করে ট্যারিফ কমানোর সুযোগ রয়েছে। তা বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে ভর্তুকির চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিল পরিশোধে সংকট কাটাতে উদ্যোগভর্তুকির অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল পরিশোধে সমস্যা হচ্ছিল। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই দ্রুত অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

💬 Click to view comments