আন্তর্জাতিক
রাফাহ ক্রসিং বন্ধে গাজায় আটকা পড়েছেন ২০ হাজারের বেশি রোগী
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গাজা থেকে বের হওয়ার প্রধান পথ রাফাহ ক্রসিং। এর ফলে উপত্যকায় আটকা পড়েছেন ২০ হাজারের বেশি রোগী, যাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নেওয়া প্রয়োজন।
আলজাজিরার খবর জানায়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েল রাফাহ ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজাবাসীর চিকিৎসার জন্য ভ্রমণের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাতায়াতের জন্য সীমিত পরিসরে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছিল। যে অল্প কয়েক দিন পথটি খোলা ছিল, তাতেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে থাকা সব রোগী বাইরে যেতে পারেননি। তখনো হাজার হাজার রোগী গাজার বাইরে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এরই মধ্যে আবার রাফাহ ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই চাপ আরও বেড়েছে।
আলজাজিরা জানায়, বর্তমানে গাজার ২০ হাজারের বেশি রোগী বিদেশে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন। এর মধ্যে অন্তত চার হাজার ক্যানসার রোগী, যাদের অনেকেরই জরুরি চিকিৎসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গাজা থেকে বহির্গমণ বন্ধ করে দেয়ার ফলে চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়া যাচ্ছে না পাঁচ মাস বয়সি শিশু আলমাকে। আলমার মা লামা আবু রেইদা জানাচ্ছেন, শিশুটির যে অপারেশন প্রয়োজন, তা গাজায় করানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘ওর চিকিৎসায় যদি আরও দেরি হয়, আমি জানি না কী হতে পারে। ওর অবস্থা ভালো না।’
যথাসময়ে চিকিৎসা করাতে না পারায় পরপর দুটি সন্তান মারা গেছে হাদিল জোরোব নামে এক নারীর। হাদিল বলেন, ‘ক্রসিং বন্ধ হওয়ায় আমার সন্তানরা মারা গেছে। ওদের চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সময় আমাদের আটকে দেওয়া হয়েছিল।’
মানবাধিকার সংস্থা আল-দামির ক্রসিং বন্ধের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, ‘এই পরিস্তিতি গাজার মানবিক সংকট আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষত ক্যানসার এবং অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিরা, ওষুধ এবং চিকিৎসাকর্মীর অভাবে ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।’
