অর্থনীতি
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে ভিড়, আমন্ত্রণপত্র ছাড়া ঢুকতে না পেরে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে মানুষের ঢল নামে। তবে আমন্ত্রণপত্র ছাড়া প্রবেশের সুযোগ না থাকায় অনেকেই ভোগান্তিতে পড়ে ফিরে যান, সৃষ্টি হয় অসন্তোষ।শনিবার সকালে তারেক রহমান-এর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যমুনার সামনে জড়ো হন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে “সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ” বলা হলেও বাস্তবে সেখানে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়।পুরান ঢাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তিনি জানতে পারেন, নির্দিষ্ট আমন্ত্রণপত্র ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম-সহ আরও অনেকেই। ভিড় এবং বিশৃঙ্খলার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।অব্যবস্থাপনার অভিযোগসকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, পরিচিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেছে বেছে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যেও ক্ষোভ দেখা যায়। ছাত্র সংগঠনের এক নেতা জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা প্রবেশ করতে পারেননি, যদিও পরে বিকল্প পথে কিছু লোক ঢোকার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানা যায়।ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নএর আগে সকালে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নামাজ শেষে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে যমুনায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি শুরু করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।সাধারণ মানুষের হতাশাদুপুরের দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুভেচ্ছা বিনিময় পর্ব শেষ হয়েছে। তবে তখনও যমুনার সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন, যাদের অনেকেই বিষয়টি জানতেন না। পরে খবর পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা।সামগ্রিকভাবে, ঈদের দিনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা থাকলেও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতায় তা পূরণ হয়নি—এমনটাই মনে করছেন উপস্থিত অনেকে।
