অর্থনীতি
৮ বড় দুর্ঘটনায় ৬৭ মৃত্যু: দায় কি শুধু নিচু সারির কর্মীদের?
নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশের রেলপথে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলেও দায় নির্ধারণে একই চিত্র বারবার সামনে আসছে—নিচু স্তরের কর্মীদের শাস্তি দিয়ে দায় সারছে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ কুমিল্লার পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায়ও সেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
কুমিল্লার মর্মান্তিক দুর্ঘটনাশনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, ট্রেনটি বাসটিকে অনেক দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।প্রাথমিক তদন্তে রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যানদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্টেশনমাস্টারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
৮ বছরে ৮ বড় দুর্ঘটনারেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে গত আট বছরে অন্তত ৮টি বড় দুর্ঘটনায়:মৃত্যু: ৬৭ জনআহত: ২১৮ জনের বেশিপ্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী করা হয়েছে চালক, সহকারী চালক, গার্ড বা গেটম্যানদের।
বড় দুর্ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র২০২৩, ভৈরব
: দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৯ জন২০২৩, নাঙ্গলকোট
: পেছন থেকে ধাক্কায় আহত প্রায় ৫০ জন২০২২, মিরসরাই: মাইক্রোবাসে ধাক্কায় নিহত ১৩ জন২০১৯, কসবা:
ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১৬ জন২০২১, খুলশী
: রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় নিহত ৩ জন২০২৫, কালুরঘাট: বিভিন্ন যানবাহনে ধাক্কা, নিহত ২ জন২০১৮, বারইয়ারহাট
: বাসে ধাক্কায় নিহত ২ জনপ্রায় সব ক্ষেত্রেই তদন্তে নিচু পর্যায়ের কর্মীদের অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।
তদন্ত নিয়ে উঠছে প্রশ্নবিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্ত প্রক্রিয়া একপেশে এবং কাঠামোগত সমস্যাকে আড়াল করে।পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. সামছুল হক বলেন
:“বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও শুধুমাত্র নিচু স্তরের কর্মীদের শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কখনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না।”তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিতে রেলওয়ের নিজস্ব কর্মকর্তারা থাকায় অনেক সময় প্রকৃত কারণ চাপা পড়ে যায়।
সমাধানে কী ভাবছে সরকার?রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সামনে বড় প্রশ্নবারবার একই ধরনের দুর্ঘটনা এবং একইভাবে দায় নির্ধারণ—এতে রেল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নিচু পর্যায়ের কর্মীদের শাস্তি নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।নচেৎ, উৎসবের আনন্দ বারবার পরিণত হতে পারে শোকের ঘটনায়—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
