অপরাধ
আমতলীতে ভাইয়ের দ্বন্দ থামাতে গিয়ে চাচাত ভাই খুন, অভিযুক্তসহ দুইজন আটক!
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধ থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে জহিরুল ইসলাম সিকদার (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুনসুর সিকদারকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রীকেও থানায় আনা হয়েছে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে নিহতের নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মুনসুর সিকদার ও তার আপন ভাই ফরিদ সিকদারের মধ্যে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া প্রায় ২৬ শতাংশ (৮ কড়া) জমি নিয়ে দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ঘটনার দিন সকালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মুনসুর সিকদার ধারালো ছুরি নিয়ে তার ভাই ফরিদ সিকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়া করেন। এ সময় তাদের চাচাত ভাই, মৃত শামসু সিকদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম সিকদার বাধা দিতে গেলে মুনসুর সিকদার তার বাম পাঁজরে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা ও স্বজনরা দ্রুত জহিরুলকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সালিসদার মো. লিমন হাওলাদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চললেও কাগজপত্র অনুযায়ী অভিযুক্ত মুনসুর সিকদারের ওই জমিতে কোনো মালিকানা নেই। তবুও তিনি জমির দাবি করে আসছিলেন।
নিহতের স্ত্রী নুপুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। একইভাবে নিহতের মা রোকেয়া বেগম শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন এবং হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, নিহতের বাম পাঁজরে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল এবং হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মুনসুর সিকদারকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রীকেও থানায় আনা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

