আন্তর্জাতিক
তাইওয়ান ঘিরে ফেলছে চীনের যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটার জেট
তাইওয়ান দ্বীপের আশপাশে আবারও চীনা সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। দ্বীপটির কাছে চীনের যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।রোববার (১৫ মার্চ) মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার দ্বীপটির আশপাশে ২৬টি চীনা সামরিক বিমান দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৬টি বিমান তাইওয়ানের মধ্য ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের বিমান প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে (এডিআইজেড) প্রবেশ করে। একই সময়ে দ্বীপটির আশপাশে চীনের সাতটি নৌবাহিনীর জাহাজও শনাক্ত করা হয়েছে। এ সংবাদ প্রকাশ করেছে উইঙ্ক নিউজ।গত দুই সপ্তাহ ধরে চীনা সামরিক বিমানের কার্যক্রমে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এতে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।তাইওয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এক সপ্তাহে চীনের কোনো সামরিক বিমান তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করেনি। ৬ মার্চ দুটি বিমান শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী চার দিন কোনো বিমান দেখা যায়নি। পরে বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে সীমিত সংখ্যক বিমান আবার উড্ডয়ন শুরু করে।এই পতন ঘটে চীনের আইনসভার বার্ষিক বৈঠকের সময়। অতীতে বড় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বা সরকারি ছুটির সময় সামরিক তৎপরতা কমার নজির থাকলেও এবার তা তুলনামূলক বেশি লক্ষণীয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।বিশ্লেষকদের মতে, কেবল এই বৈঠকই তৎপরতা কমার কারণ নয়। আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমিয়ে আনার চেষ্টা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করতে পারেন। তবে বেইজিং এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, চীনের সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নের নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। এর অংশ হিসেবে বাহিনীগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণের নতুন মডেল পরীক্ষা করা হতে পারে।চীন প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং প্রায় প্রতিদিনই দ্বীপটির আশপাশে যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাচ্ছে।তবে তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী বলছে, চীনা যুদ্ধবিমানের ওঠানামা তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।এর আগে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কমলেও চীনের নৌবাহিনী কাছাকাছি জলসীমায় সক্রিয় রয়েছে।
