আন্তর্জাতিক
ইরানে বহিরাগত দেশের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই: সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র
ইরানে বহিরাগত কোনো দেশের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ‘খাতাম আল আম্বিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইবরাহিম জোলফাগারি।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাগারি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করবে ইরান।বুদ্ধিমত্তা ও শক্তির মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানান তিনি।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজের বরাতে তিনি আরও জানান, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরাকের এরবিলে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া ইরানি বাহিনী লক্ষ্যবস্তু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধফরা বিমানঘাঁটি ও সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে অবস্থানরত আমেরিকান সেনাদেরকে।যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকেও (ফিফথ ফ্লিট) লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানান তিনি।ইব্রাহিম জোলফাগারি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা, আশকেলন শহর ও গুশ দান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।এদিকে সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। আমি আর আয়াতুল্লাহ—পরবর্তীতে যে আয়াতুল্লাহ হোন না কেন—এটি নিয়ন্ত্রণ করব।এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়ে লিখেছেন, অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিরোধের বিষয়ে সম্পূর্ণ এবং সামগ্রিক সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।তিনি বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সব সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) নির্দেশ দিয়েছি। তবে এটি চলমান বৈঠক এবং আলোচনার সফলতার ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা বা সংলাপ চলছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্প মূলত জ্বালানির দাম কমাতে এই কৌশল নিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান।সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানো এবং তার সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময়ক্ষেপণের কৌশল।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে যোগ করেছে, উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে কিছু ‘উদ্যোগ’ নেওয়া হয়েছে। তবে দেশগুলোর উচিত নিজেদের উদ্বেগ নিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলা। কারণ তারাই ‘এই যুদ্ধের সূচনাকারী’।
