Connect with us
Porikromanews 728x60 Banner

অপরাধ

থানার ভেতরে মব: নিরাপত্তাহীনতার সংকেত, সমাজের জন্য কী বার্তা?

Published

on

থানার ভেতরে মব: নিরাপত্তাহীনতার সংকেত, সমাজের জন্য কী বার্তা?

নূর হোসেন ইমাম: একটি থানা যেখানে সাধারণ মানুষ শেষ আশ্রয় খুঁজে পায়, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা সেই থানার ভেতরেই যদি মব প্রবেশ করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে সেটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতার প্রতিফলন।

থানা তখনই অনিরাপদ বলে মনে হয়, যখন সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, অপরাধীরা বা উত্তেজিত জনতা সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে, কিংবা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও নিজেদের নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হন। এমন পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং আইনের প্রতি সম্মানও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

থানার ভেতরে মবের উপস্থিতি একটি ভয়ংকর বার্তা বহন করে এটি জানিয়ে দেয় যে সমাজে বিচারহীনতা বাড়ছে এবং মানুষ আইনের ওপর ভরসা হারিয়ে নিজেরাই ‘বিচার’ করতে চাইছে।

এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ এতে আইনের শাসনের পরিবর্তে “গণবিচার” বা বিশৃঙ্খলার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।সাধারণ মানুষ মূলত একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল সমাজ দেখতে চায়যেখানে থানায় গেলে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। তারা চায় পুলিশ হবে নিরপেক্ষ, পেশাদার এবং সাহসী; অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর, আর নিরপরাধদের প্রতি মানবিক।

থানার ভেতরে যদি অরাজকতা তৈরি হয়, তাহলে সেই বিশ্বাস ভেঙে পড়ে এবং মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা জন্ম নেয়।এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পেশাদার পুলিশিং, এবং জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা।

পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে হবে, যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।সবশেষে বলা যায়, একটি থানা শুধু একটি ভবন নয় এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের প্রতীক। সেই প্রতীক যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে পুরো সমাজই অনিরাপত্তার অন্ধকারে ঢেকে যেতে পারে।

💬 Click to view comments