বিশেষ সংবাদ
বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আলু, নুয়ে পড়েছে ধান কলা ভুট্টা
বগুড়ায় আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিতে ২৩৬ হেক্টর জমির কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে জেলার হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোরো ধান, আলু, কলা, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষতি উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে কৃষি দপ্তর।
গত ১২ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত কয়েক দফায় বৃষ্টি এবং ঝড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টি ও ঝড়ে বগুড়ার শাজাহানপুর, শেরপুর, ধুনট, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সোনাতলা ও শিবগঞ্জে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২৩৬ হেক্টর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩০ হেক্টর জমির ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫ হেক্টরের আলু, ২৮ হেক্টরের বোরো ধান, ১৫ হেক্টরের সবজি, ১৫ হেক্টরের কলা এবং ৩ হেক্টর জমির পেঁয়াজসহ অন্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে মোট ৫৩৯ দশমিক ৮৫ টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ, আর্থিকভাবে যার পরিমাণ ১ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার ৫২০ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় আছেন ১ হাজার ১৬৫ জন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর এই সময় হালকা বৃষ্টি হয়। তবে এবার ভারি বৃষ্টিতে জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রোববার রাতের ঝড়ে কৃষকদের দিশাহারা করে ফেলেছে।
শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, দুই বিঘা আগাম জাতের ভুট্টা করেছিলেন। সবে মোচা বের হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টিতে সব মাটিতে পড়ে গেছে। তার পাশে আখের জমিরও একই অবস্থা। অল্প কিছু জমিতে আলু ছিল, পানিতে ডুবে আছে। এমনিতে আলুর দাম নেই। শ্রমিক লাগিয়ে আলু তোলাই বৃথা।

শিবগঞ্জের কিচক ইউনিয়নের মোসলেমগঞ্জের কৃষক আবু সাইদ সাত একর জমির আলু নিয়ে বিপদে ছিলেন। সেই বিপদকে পাকাপোক্ত করেছে ঝড়-বৃষ্টি। আবু সাইদ বলেন, এক বিঘা জমির আলু তুলতে শ্রমিক লাগে ৭-৮ জন। আর পানি হওয়ার কারণে সেই জমিতে এখন শ্রমিক লাগছে ২৫ জন। আলুর দাম প্রতি মণ ৩৬০ টাকা। খরচ করব কি, বিক্রি করে আয় করব কি?
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ২১৮ হেক্টর জমিতে বোরো, ভুট্টা, কলা, আলু ও শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ হয়। এর মধ্যে ২৩৬ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ও কৃষকের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা পাঠিয়েছি। কৃষকদের সহযোগিতায় অধিদপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা এলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব।
