জাতীয়
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটির ১৫তম সভা অনুষ্ঠিত!
চট্টগ্রাম, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫:
সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটির ১৫তম সভা আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় বানৌজা ঈসা খানে অনুষ্ঠিত হয়।
সকল মেরিটাইম সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা। সভায় হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং মেরিটাইম সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশানোগ্রাফিক সেন্টারের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন এবং নৌবাহিনীর সার্ভে জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রে পরিচালিত হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সরজমিনে প্রত্যক্ষ করবেন।
সভায় হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের গুরুত্ব তুলে ধরে জানানো হয় যে, এ ধরনের জরিপ সমুদ্রগামী জাহাজের নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এর ‘সেইফটি অব লাইফ অ্যাট সি (SOLAS)’ কনভেনশন অনুযায়ী উপকূলীয় দেশসমূহের জন্য যথাযথ হাইড্রোগ্রাফিক সেবা ও নটিক্যাল চার্টিং নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৮৩ সালে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভিস চালু করে।
২০০১ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (IHO)-এর সদস্যপদ অর্জন করে এবং একই বছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ২৫টি মেরিটাইম ও সহযোগী সংস্থা এই কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করছে।
সভায় সমুদ্র জরিপ, অফশোর স্থাপনা, সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্দর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, তথ্য বিনিময় ও প্রশিক্ষণ জোরদারকরণসহ মেরিটাইম স্পেশাল ডাটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার (MSDI) এবং মেরিটাইম স্পেশাল প্ল্যানিং (MSP) প্রণয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটি হাইড্রোগ্রাফি ও সমুদ্রবিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের সমুদ্র অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২০২৫–২০২৭ মেয়াদে নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন (NIOHC)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে, যা দেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
