জাতীয়
শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই হলফনামায় ‘বেকার’ মোয়াজ্জেম হোসেন
শত শত কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাগুরা-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই প্রার্থী তার হলফনামায় নিজেকে ‘বেকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।মাগুরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোয়াজ্জেম হোসেনের নিজের নামে নগদ অর্থ রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তিনি কোনো মাসিক আয়, চাকরি, ব্যবসা কিংবা দেশে-বিদেশে আয়ের কোনো উৎসের তথ্য উল্লেখ করেননি। আয়ের উৎস সংক্রান্ত ঘরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ এপ্রিল ক্ষমতার অপব্যবহার, তদ্বির ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর উপদেষ্টার এপিএস পদ হারান মোয়াজ্জেম হোসেন। এরপর থেকেই তিনি নিজেকে বেকার হিসেবে দাবি করে আসছেন, যার প্রতিফলন দেখা গেছে তার নির্বাচনী হলফনামায়।হলফনামা অনুযায়ী, মোয়াজ্জেম হোসেনের কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। জমি, বাড়ি বা অন্যান্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। অস্থাবর সম্পদের তালিকায় তার নিজের নামে নগদ অর্থ ছাড়াও স্ত্রীর নামে ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি সংসারের খাট, ফ্রিজ, আলমারি, সোফা, টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।এসব সম্পদের বিপরীতে তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন মাত্র ৩০২ টাকা বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, তার কোনো ব্যক্তিগত দেনা নেই এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছেও তিনি ঋণগ্রস্ত নন।মোয়াজ্জেম হোসেন মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দরিদ্র কৃষক আজিজার মণ্ডলের সন্তান এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় মাস্টার্স পাস। বর্তমানে তিনি স্ত্রী মারিয়া ফেরদৌসী মনিরাকে নিয়ে ঢাকার শ্যামলী এলাকার ‘নবনীড়’ সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। হলফনামায় তার স্ত্রীর পেশা গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন প্রার্থীর হলফনামায় প্রদত্ত সীমিত সম্পদ ও আয়ের তথ্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
