Connect with us
Porikromanews 728x60 Banner

অপরাধ

৭ বছর আগে দেখা, ২০২৪ সালে প্রেম, পরের বছর দুজনই খুনের আসামি

Published

on

৭ বছর আগে দেখা, ২০২৪ সালে প্রেম, পরের বছর দুজনই খুনের আসামি
২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর অঞ্জলির সঙ্গে আশিষ কুমারের বিয়ে হয়। আর গত ৩০ জানুয়ারি আশিষ খুন হনছবি: নিউজ এইটিনের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

ভারতের রাজস্থান রাজ্যে এক নববধূর বিরুদ্ধে প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে হত্যা করানোর অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ওই নারীর স্বামী খুন হন।

এই হত্যাকাণ্ড ইতিমধ্যে ‘রাজস্থান হানিমুন মার্ডার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ২০১৮ সালের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ওই বছর এক বিয়ের অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত ২৩ বছর বয়সী অঞ্জলির সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী সঞ্জয়ের প্রথম দেখা হয়। সঞ্জয় ওই অনুষ্ঠানে ওয়েটারের কাজ করছিলেন।

ওই সাক্ষাতে দুজনের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয় এবং সঞ্জয় অঞ্জলিকে তাঁর ফোন নম্বর দেন। তবে তখন অঞ্জলির কাছে মুঠোফোন না থাকায় দুজনের মধ্যে আর যোগাযোগ থাকেনি।

অবশেষে ২০২৪ সালে অঞ্জলি একটি ফোন কেনেন এবং সঞ্জয়ের সঙ্গে আবার তাঁর যোগাযোগ হয়। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।

তবে অঞ্জলির পরিবার দুজনের সম্পর্কের পক্ষে ছিল না। সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও অঞ্জলির মা-বাবা তাঁর সঙ্গে অন্য একজনের বিয়ে ঠিক করেন।

২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর অঞ্জলির পরিবার তাঁকে রাজস্থান রাজ্যের রাওলা এলাকার এমকম পাস আশিষ কুমারের সঙ্গে বিয়ে দেন।

অঞ্জলি নিজেও বিকম গ্র্যাজুয়েট ছিলেন। বিয়ের পর তিনি রাওলায় বসবাস শুরু করেন। তবে তিনি সুখী ছিলেন না। রাওলায় শ্বশুরবাড়ি আর সাদুলশাহারে মায়ের বাড়ির মধ্যে ২২৫ কিলোমিটারের দূরত্ব ছিল।

এই ভৌগোলিক দূরত্বও অঞ্জলির জন্য বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। তিনি সঞ্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে থাকেন।

স্বামীর হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ দিন আগে অঞ্জলি তাঁর মায়ের বাড়িতে যান। পুলিশের তথ্য বলছে, ঠিক ওই সময়ে অঞ্জলি ও সঞ্জয় মিলে আশিষ কুমারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

অঞ্জলির বিয়ের পর থেকে তাঁর সঙ্গে সঞ্জয়ের সামনাসামনি দেখা না হলেও তাঁরা দুজন প্রায়ই হোয়াটসঅ্যাপ কলে কথা বলতেন। হত্যাকাণ্ডের দিনও দুজন পাঁচ থেকে সাতবার হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন।

পুলিশ বলছে, গত ৩০ জানুয়ারি রাতের খাবারের পর অঞ্জলি পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামীকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। এরপর তিনি ফোনে সঞ্জয়কে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে জানান।

সঞ্জয় তখন তাঁর দুই সহযোগী রোহিত (আরেক নাম রকি) ও বাদলকে (আরেক নাম সিদ্ধার্থ) সঙ্গে নিয়ে রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে অপেক্ষা করছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অঞ্জলি স্বামীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোমাত্রই সঞ্জয়দের উদ্দেশে সংকেত দেন। এরপর সঞ্জয় তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে আশিষের ওপর হামলে পড়েন এবং লাঠি দিয়ে তাঁকে বারবার আঘাত করতে থাকেন। আশিষ মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও শ্বাস নিচ্ছিলেন। সঞ্জয় ও তাঁর সঙ্গীরা তখন একটি মাফলার ব্যবহার করে তাঁর শ্বাসরোধ করেন।

ঘটনাটিকে ডাকাতি বা দুর্ঘটনার মতো দেখাতে অঞ্জলি তাঁর কানের দুল এবং আশিষের মুঠোফোন হামলাকারীদের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি অচেতন হওয়ার ভান করে রাস্তার ওপর শুয়ে পড়েন।

পথচারীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আশিষকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আশিষের মাথার পেছনের অংশে গুরুতর আঘাত ছিল। গলা চেপে শ্বাসরোধ করার কারণে তিনি মারা গেছেন। এ তথ্য সামনে আসার পর পুরো তদন্তের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি পাল্টে যায়।

ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিন পুরুষকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আর অঞ্জলিকে দুই দিনের রিমান্ডের পর বিকানের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

💬 Click to view comments