Connect with us
Porikromanews 728x60 Banner

অপরাধ

আমতলীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবী, তিন জনকে গণধোলাই ও একজনকে পুলিশে সোপর্দ

Published

on

সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোঃ মনিরুল ইসলাম, মিরাজ ও মেহেদী হাসান এক অটোচালককে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। স্থানীয় জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে মিরাজকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। অপর দুই চাঁদাবাজ মনিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান পালিয়ে গিয়ে গেছে। আহত চাদাবাজ মনিরুল ইসলাম আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। মুহুতের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।  চাদাবাজ সাংবাদিকদের বিচার দাবী। ঘটনা ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে। 

জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের মনিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের এমন কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তাদের নামে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। রবিবার বিকেলে উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের অটো চালক কবির হাওলাদার যাত্রী নিয়ে তালুকদার বাজার যাচ্ছিল। পিছন দিক থেকে একটি মোটর সাইকেলে তিনজন গিয়ে অটো গাড়ীর গতিরোধ করে এবং যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। পরে অটোচালক কবির হাওলাদারকে গাঁজার ব্যবসা কর বলে মারধর করে। এক পর্যায় তারা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। অটো চালক চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন অটো চালক এসে জড়ো হয়ে কবিরকে মারধরের প্রতিবাদ করে। এতে তাদের ওপর তারা ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায় অটোচালক ও স্থানীয়রা কথিত সাংবাদিকদের গণ ধোলাই দেয়।

গণধোলাই খেয়ে মনিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান পালিয়ে যায় এবং মিরাজ মিয়াকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আহত মনিরুল ইসলাম আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে খবর পেয়ে বরগুনা-১ আসনের সাংসদ মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ আমতলী থানার ওসিকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনা মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সকলেই এ চাঁদাবাজদের শাস্তি দাবী করেছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী অটোচালক ওসমান মিয়া বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মনিরুল ইসলাম, মিরাজ ও মেহেদী হাসান অটোচালক কবির হাওলাদারকে কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে। আমি এর প্রতিবাদ করলে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।  এক পর্যায় স্থানীয় জনতা তাদেরকে গণধোলাই দেয়। তিনি আরো বলেন, গণ ধোলাই খেয়ে মনিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান পালিয়ে গেছে আর মিরাজকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

অটোচালক কবির হাওলাদার বলেন, আমি যাত্রী নিয়ে তালুকদার বাজার যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে একটি মোটর সাইকেলে তিনজন এসে আমার গতিরোধ করে। গাড়ী থামালে আমার কলার ধরে গাড়ী থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং গাড়ী থেকে সকল যাত্রী নামিয়ে দেয়। পরে আমার কাছে মনিরুল ইসলাম সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে পুনরায় মারধরে করেছে। খবর পেয়ে অটোচালক ও স্থানীয় জনতা এসে আমাকে মারধরের বিষয়ে প্রতিবাদ করে। আমি এ ঘটনায় তাদের শাস্তি দাবী করছি।

কথিত সাংবাদিক মোঃ মনিরুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭৭৪৮৯৮৩২৩) কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।     
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, মনিরুল ইসলামকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 
বরগুনা পুলিশ সুপার মোঃ কুদরাত-ই খুদা পিপিএম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। আমতলী থানার ওসিকে মামলা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বরগুনা-১ আসনের সাংসদ মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ বলেন, আমতলী থানার ওসিকে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বরগুনাতে কোন চাঁদাবাজের  জায়গা হবে না। যেখানেই চাঁদাবাজি, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  

💬 Click to view comments