অপরাধ
বরগুনায় প্রাণিসম্পদ অফিসের নির্মাণ কাজে বিএনপি নেতার বাধা ও শ্রমিকদের মারধর: নিরাপত্তার আবেদন!
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনাঃ
বরগুনা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের চলমান উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাধা প্রদান এবং শ্রমিকদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরগুনা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে মেইন গেট, বাউন্ডারি ওয়াল, আরসিসি রোড এবং ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছিল। গত ১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কাজ চলাকালীন স্থানীয় ১) মো: মিল্টন খান, ২) মুরাদ খান এবং ৩) নিলয়সহ বেশ কিছু ব্যক্তি কাজে বাধা প্রদান করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা নির্মাণ সাইট থেকে মিস্ত্রি ও শ্রমিকদের মারধর করে বের করে দেন।

ঠিকাদারের পদক্ষেপ
এই ঘটনার পর মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশনের প্রোপ্রাইটর আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারি এই কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য তার এবং তার শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা
ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ডা: মো: এনামুল কবীর গত ৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখে বরগুনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে একটি দাপ্তরিক পত্র প্রদান করেছেন। ওই পত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটার আলহাজ্ব নুর মোহম্মদ জানান, ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর কাজ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও অ্যাড মুরাদ খান তাঁকে ফোন দিয়ে বলেন “আমরা কাজ করবো, আমাদের বরগুনায় অন্য কাউকে কাজ করতে দিবো না” তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার কথায় গ্রায্য না করলে, লেভার দের মারধর করে হোটেল মৌমিতা থেকে বের করে দেন এর পর লুকিয়ে অন্য হোটেলে থাকলেও সেখান থেকে বের করে দিয়ে টিকিট কেটে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন মুরাদ খান, মিল্টন খান, নিলয় সহ আরো অনেকে। এরপর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল মোল্লাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কল দিয়ে বিষয়টি জানান এবং বলেন আপনার তো সালা আপনি তো তার সুমনন্দি আপনি বিষয়টি দেখেন তবে তিনি দেখবো বলে আর জাননি বলে জানিয়েছেন নুর মোহম্মদ!
এ বিষয়ে সাংবাদিক, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য বিএনপি নেতা মুরাদ খানকে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ফোন কেটে দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে এই ঘটনার ফলে সরকারি উন্নয়ন কাজটি সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
