জাতীয়
পুলিশের ৪ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের নেতৃত্বে ১৫তম বিসিএসের চার কর্মকর্তা
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব দিয়েছে সরকার। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) শীর্ষ পদে চার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সোমবার (১৬ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
শীর্ষ চার পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সাবেক মহাপরিচালকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দেশের অন্যতম এলিট ফোর্সটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন।
মো. আহসান হাবীব পলাশ ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সদস্য হিসেবে ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন।
র্যাবের মহাপরিচালক হওয়ার আগে তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে আঞ্চলিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি (সুপারনিউমারারি) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এর আগে তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।
এসবি প্রধান সরদার নুরুল আমিন
একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসবির দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম/ডেভেলপমেন্ট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা এবং ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।
তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মুন্সীগঞ্জ, নওগাঁ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি এবং রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) হিসেবেও কাজ করেছেন। পুলিশ বাহিনীতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছে সুপরিচিত।
সিআইডির প্রধান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ
অপরদিকে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিআইডির দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা এবং ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।
তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১৮ মে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৩৩তম কমিশনার হিসেবে সিএমপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডিআইজি হাসিব আজিজ।
এর আগে তিনি সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে দায়িত্ব পালন করেন। ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০০২ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হাসিব আজিজ ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর শরীয়তপুর জেলার সফিপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম (১৯৯৫) এবং যুক্তরাজ্যের হাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ (২০০৫) ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাবা এম আজিজুল হক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই চার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ সূত্র বলছে, দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তদন্ত কার্যক্রমে পারদর্শিতা নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ের জটিল অপরাধ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
