অপরাধ
বরগুনার সাবেক পিআইও ওয়ালিউল ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগে জেল হাজতে!
আতিকুর রহমান ইসতিঃ বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলার সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ওয়ালিউল ইসলাম (ওরফে জি এম ওয়ালিউল ইসলাম)-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চার্জশিট দাখিল করেছে।
বর্তমানে তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে বরগুনার বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার চার্জশিট (নং-০৩) দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (মাটির কাজ) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোটবাড়িয়া গ্রামের গণি মৃধার বাড়ি থেকে শামীম মৃধার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এবং তুলসিবাড়িয়া গ্রামের শামসু খানের বাড়ি থেকে মালেক খানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজে দুর্নীতির ঘটনা ঘটে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পূর্বের প্রকল্প প্রাক্কলন গায়েব করে নতুন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়।
এছাড়া সরেজমিনে পরিমাপক টিমের তদন্তে দেখা গেছে, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় প্রায় ৯৬৭ দশমিক ২৪২ ঘনমিটার কম মাটির কাজ করা হয়েছে।
দুদকের তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রকৃত কাজ না করেই অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৯৭ টাকা ৭৩ পয়সা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।এ ঘটনায় মো. ওয়ালিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৭৭(ক) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করেন দুদক পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সোমা রানী সরকার। তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) এবং সংশ্লিষ্ট পিআইও অফিসের আর্থিক ক্ষতি ও পরিমাপক সংক্রান্ত নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
